ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ৩০ ২০২২,

এখন সময়: ০৬:৫৫ মিঃ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি | ০২:০৭ মিঃ, অক্টোবর ২, ২০১৮



একটি দেশের উন্নয়নের মূলে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই শিক্ষা এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে আসছে। এক সময় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিলনা। তবুও মানুষ বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষা গ্রহণ করত। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা শিশুকে নিয়ে যায় আরও বৃহত্তর গন্ডিতে। শিশু তখন বিদ্যালয়ের পরিবেশ আর শিক্ষকদের সান্নিধ্যে এসে প্রবেশ করতে থাকে জ্ঞানের নতুন নতুন শাখায়। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষা বিস্তারে এবং এর মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের পেশকৃত সুপারিশমালা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারনে বাস্তবতার মুখ দেখেনি। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে প্রতিটি সরকার গঠন করেছে শিক্ষা কমিশন। কিন্তু কোনো সরকারের পক্ষেই একক ভাবে শিক্ষার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়নের জন্য বাড়িয়েছে সাহায্যের হাত। প্রতিটি জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বেড়েছে বরাদ্দ। কিন্তু তাতেও সুফল আসেনি। শিক্ষার কোয়ালিটি না বাড়লেও কোয়ানটিটি যে বেড়েছে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বিশ্ব যেখানে এগিয়ে চলেছে সম্মুখ পানে, সেখানে আজ আমরা পড়ে আছি অজানা এক অন্ধকার গুহায়। তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে নেমে এসেছে আজ চরম হতাশা।

 

জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় শিক্ষা সমস্যা হয়ে উঠেছেঠ আরও সংকটাপন্ন। রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য না দেয়ার প্রেক্ষিতে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজ করছে যথেষ্ট অরাজকতা। যার প্রভাব পড়ছে আজ জাতীয় পর্যায়ের সকল ক্ষেত্রে। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারনে মেধাবী ছাত্ররাও পাচ্ছেনা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ। ফলে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায় সৃষ্টি করছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ অভিভাবকদের অসচেতনাতার কারনে সম্ভাবনায় অনেক শিক্ষার্থীর স্বর্নোজ্জল ভবিষ্যৎ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। দৈনন্দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ৬-৮ ঘন্টা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পরিবেশের সাথে সস্পৃক্ত থাকে। বাকী সময় পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠে। বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র বিষয় সম্পর্কে একটা ধারনা দেওয়া হয়ে থাকে এবং সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত করার দায়িত্ব পারিবারিক পরিবেশে। অথচ আমাদের অধিকাংশ অভিভাবক দরিদ্র ও অশিক্ষিত এবং প্রায় অভিভাবকই সন্তানদের সম্পর্কে খোজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। 
    উন্নত বিশে^ অভিজ্ঞ ও মেধাবী ব্যক্তিরাই শিক্ষকতা পেশায় চলে আসেন। অথচ আমাদের দেশে এর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যারা অন্য কোন পেশায় সুযোগ করে নিতে পারেনা তারাই কোনো রকমে অর্জিত সার্টিফিকেটের বদৌলতে বেকার জীবনের অবসান ঘটাতে কয়েকজনে মিলে স্থাপন করেছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে কতটুকু উপকৃত হবে তা অতি সাধারণ ভাবে অনুমান করা যায়। আনন্দের সাথে পাঠদান ও পাঠগ্রহণই হলো আধুনিক শিক্ষার মুলনীতি। সেহেতু শিক্ষক ছাত্রের পারস্পরিক প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই পাঠদান প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকের দক্ষতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয় শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন স্কেল দিয়েছেন। যার ফলে শিক্ষকদের হাতাশা দূর হচ্ছে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষকদের আগমন ঘটেছে। 

    শিক্ষাক্রম উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এরই ভিত্তিতে প্রনীত হয়েছে পাঠ্যপুস্তুক। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী কৌতুহলী ও মনোযোগী করার জন্য পাঠ্যপুস্তকগুলো আকর্ষনীয় ও টেকসই করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণি ভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা আনন্দময় পরিবেশে আয়ত্ব করতে পারে এবং নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারে সেই ভাবে পাঠ্যপুস্তুক প্রনয়ন করা হয়েছে। শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। প্রধান শিক্ষকদের দেওয়া হচ্ছে লিডারশীপ, একাডেমিক তত্ত¡াবধান ও অটিজমসহ একীভ‚ত শিক্ষা, টি.এস.এন শিক্ষাক্রম বিস্তরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এ সকল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদেরকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়া অটিজমসহ একীভ‚ক্ত শিক্ষাকে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যাতে কোন শিশু অবহেলিত বা শিক্ষার বাইরে না থাকে। শুই তাই নয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সমাজের অবেহলিত ও দুঃস্থ প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছেন। এ সকল কিংবদন্তী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে প্রাথমিক শিক্ষার সংকটতা কাটিয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সাথে তুলনা করা যায়। অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত মানুষকে চাকুরীজীবি বলে মনে হলেও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত শিক্ষক সমাজ অভিভাবকদের কাছে “মাস্টার” নামে অন্য এক জগতের প্রাণী বলে পরিচিত। বিষয়টা এমন যে মাষ্টারী করেছেন কেন, চাকুরী পেলেনন না ? আমাদের সামাজিক জীবনে এ ধরনের মনোবৃত্তির আমূল পবিরর্তন হওয়া বাঞ্চনীয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এরই মধ্যে জাতি গঠনের অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করে যেতে হবে আমাদের। শিক্ষাক্ষেত্রে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যেমন রয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজ সচেতনদের একান্তিক প্রচেষ্টা। তেমনি রয়েছে শিক্ষক সমাজের উপর অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালনের মন মাসসিকতা, তাহলেই জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। 
 

মন্তব্যঃ সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ 16132 বার।





এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

১১:২৮ মিঃ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

মাইজভান্ডার দরবার যাওয়ার পথে ঝরল ৫ প্রাণ

১২:০০ মিঃ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

কুষ্টিয়া ও মুন্সিগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

সর্বশেষ আপডেট

বিএসএমএমইউ-তে চিকিৎসার ব্যাপারে আরও সময় চান খালেদা এরা কী আন্দোলন করবেন, সবাই তো মঞ্চে ঘুমাচ্ছিলেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চান ড. কামাল নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী চার হাজার মামলার কারণ জানতে চেয়ে রিট গায়েবি মামলায় ২২ দিনে আসামি ৩ লাখ ২৫ হাজার : রিজভী ১০ জেলায় নতুন ডিসি ধানের শীষ জনগণের কাছে বিষ : কাদের মংলা-বুড়িমারী বন্দরে শতভাগ দুর্নীতি : টিআইবি আসন বাড়লেও কমেছে এমবিবিএস ভর্তিচ্ছুর সংখ্যা! পাক-ভারত সেনাবাহিনীর মধ্যে ফের উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি বিএনপি পার্টিটাই ভুয়া : কাদের ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই’ ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা, নিহত বেড়ে ২৪
Designed & Developed by TechSolutions Bangladesh